কিভাবে সামালাবেন বিবাহ পরবর্তী খরচ?

কিভাবে সামালাবেন বিবাহ পরবর্তী খরচ?

বিয়ে ব্যপারটা ই অনেক খরচের, বলা যায় বিয়ে কেবল মাত্র খরচের শুরু। বিয়ের পর নতুন মানুষ নতুন নতুন মানুষ খরচের অংকটা যেন বাড়তেই থাকে এর রাশ টেনে ধরা খুব কঠিন হয়ে পড়ে একসময়। যারা উচ্চবিত্ত তথা লাখ লাখ কোটি কোটি টাকা প্রতিনিয়ত খরচ করে থাকেন বিবাহ পরবর্তী খরচগুলো তাদের উপর খুব বেশি একটা প্রভাব ফেলে না, কিন্তু সীমিত আয়ের চাকুরীজীবিদের চলতে হয় কিছুটা সতর্কতার সাথে। তাই ভালো হয় যদি বিবাহ পরবর্তী খরচগুলো কমিয়ে আনা যায়। আর আজকে তা নিয়েই আলোচনা করব আমরা। বিয়ের জন্য অনেকের বাবা মায়ের সঞ্চয়, নিজের জমানো টাকা ক্ষেত্র বিশেষে ব্যাংক লোন বা ধারদেনা ও করতে হয়।আর তাই আপনার বিবাহ পরবর্তী খরচগুলোতে একটু মিতব্যয়ী হতে হবে আর এটা জরুরীও বটে। মনে রাখবেন মিতব্যয় মানে কৃপণতা নয়। মিতব্যয়ীরাই বুদ্ধিমান কারণ তারা ভবিষ্যতের চিন্তা করে চলে। চলুন দেখে আসি কিভাবে বিবাহ পরবর্তী খরচ গুলো কমানো যায়।

লোক দেখানো কর্মকাণ্ড পরিহার করুন

যতটুকু করণীয় ততটুকু ই করতে চেষ্টা করুন, শুধু শুধু লোক দেখানোর নামে পকেট খালি করে ফেলার কোনো মানেই হয় না। বেশি উদারতা করতে গিয়ে আপনি পকেট খালি করে ফেলবেন না। এখন না বুঝলে পরে ঠিকই বুঝবেন। তাই নিজেকে উদার জামাই অথবা বউ বুঝাতে গিয়ে টাকা অতিরিক্ত খরচ করে ফেলবেন না। হোক সেটা নিজের জন্য অথবা নিজের শশুরবাড়ির জন্য করে।

দাওয়াত পরিহার করার চেষ্টা করুন

বিয়ের পর দাওয়াতের ধুম পড়ে যায় আর তার সাথে চাপ পড়ে পকেটেও , তাই কিছু দাওয়াত এড়িয়ে পকেট বাঁচিয়ে চলা যেতেই পারে। কখনো দেখা যায় একসাথে রাত দিন মিলিয়ে ৩-৪টা দাওয়াত এসে পরবে। আর তাই পকেটের উপর চাপ পড়াটাই স্বাভাবিক । নতুন বিয়ের পর একেবারে কিছু না হলেও এক প্যাকেট মিষ্টি কিন্তু সামাজিকতা রক্ষা করতে নিতে হবেই। তাই কিছু কিছু এড়িয়ে চলতে পারেন যদি পকেটের অবস্থা খারাপ থাকে।

শ্যালক-শ্যালিকাদের থেকে সাবধানে থাকুন

বিয়ের পর শ্যালক- শ্যালিকাদের যন্ত্রণায় অনেকেয় জর্জরিত হইয়ে থাকেন। এদের আবদারের শেষ থাকেনা। এটা নিয়ে বায়না ওটা নিয়ে বায়না, আজ রেস্টুরেন্টে খাওয়াতে হবে তো কাল শপিং করাতে হবে। তাদের সব আবদার রক্ষা করতে গেলে পকেট খালি ছাড়া উপায় নেই। আর তাই তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে একটু বুদ্ধির সাথে ম্যানেজ করুন। বুঝে শুনে খরচ করুন।

মেহমান সামলান চতুরতার সাথে

য়ের পর বাসায় যেন মেহমানের ধুম পড়ে যায়, কাছের দূরের সবাই ই মেহমান হয়ে বাসায় হাজির হয়। এখানেও খরচ কমানোর একটা ব্যাপার কিন্তু থেকেই যায়। তাই এই দিকটা একটু চালাকির সাথে সামলাতে পারলে নিজের ই বাড়তি খরচ কমবে। তাদের সুন্দর ভাবেই আপ্যায়ন করুন। বাসায় এমন কিছু আয়োজন করুন যার সাথে খুব খরচ যায় না। যেমন নাস্তায় যা লাগে তা বেশির ভাগ ই বাসায় খুব অল্প খরচেই তৈরি করতে পারেন। আর রাতের অথবা দুপুরের খাবার শুধুই তার অথবা তাদের জন্য বাইরে থেকে আনতে পারবেন, বাসায় করা গেলে আরো ভালো। এতে তাদের খাওয়ানো হল খরচও বাঁচল সবাই খুশি ও থাকলো। অথবা এমন খাবারের আয়োজন করুন যাতে বেশি আইটেম লাগে না আবার সবাই মিলে খাওয়া যায়। যেমন খিচুড়ি- মাংস , বিরিয়ানি, গ্রিল-নান।

চলিত নিয়ম এড়িয়ে চলুন

দের দেশ প্রায় সব অঞ্চলেই প্রচলিত আছে যে নতুন শ্বশুর বাড়ি যেতে হলে অনেক কিছু নিতে হবে বাজার থেকে শুরু করে সব। এসব এড়িয়ে চলাই ভালো নিতে অবশয়ই হবে তবে পরিমিত। বাসায় কজন মেম্বার আছে তা হিসেব করেন নিন। আমাদের দেশেই কিছু জায়গায় প্রচলিত আছে এমন যে প্রথম বার শ্বশুর বাড়ি থেকে কেউ আসলে জামাকাপড় দিয়ে দিতে হয়। এটা টাকার অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। এসব নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে নিজের যা ভালো মনে হয় তাই করুন।

সংসার জীবনে বিয়ে মাত্র নতুন অধ্যায়ের শুরু এরপর খরচ কিন্তু বাড়তেই থাকে কিন্তু সেই হারে কিন্তু সেলারী বা উপার্জন বাড়ে না। তাই অযথা খরচ কমিয়ে এনে সাংসারিক কার্যক্রম চালানোর দিকে মনোযোগী হওয়া উচিত সবার। নিজের সংসারে সুখ থাকলে কার জন্য কি করলে বা কে খুশি হলো বা বেজার তাতে আপনার কিছু যায় আসবেনা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা সেটা হলো মিতব্যয়ী হওয়া মানেই কৃপণতা নয়।

Comments
No comment yet