করোনা মহামারিতে অটুট রাখুন আপনার পারিবারিক বন্ধন

করোনা মহামারিতে অটুট রাখুন আপনার পারিবারিক বন্ধন

এক কথায় মহামারি শব্দটি শুনলেই সকলে ভয় পেয়ে যায়৷ তবে শব্দটি সত্যিই ভয়ের। এমন অবস্থায় পরিবারের সকলকে নিয়ে একসাথে নির্ভয়ে বাসায় কাটানো ও বেশ দুস্কর। তবে বাসার বড় ব্যক্তিবর্গ যদি সকলের সাথে একসাথে মিলেমিশে থাকে । তাহলে কিছুটা হলেও মহামারির সময় নির্ভয়ে কাটানো সম্ভব। কিছু জিনিস যদি আমরা খেয়াল করি, তাহলে হয়তো এই মহামারিতে পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখা কিছুটা হলেও সম্ভব।

যদি একটি পরিবারের পারিবারিক বন্ধন থাকে । সে সুফল আমরা জীবনের শুরু/জন্মলগ্ন থেকেই পেতে পারি। গবেষণায় উঠে এসেছে যারা পরিবারের মধ্যে সবাই মিলেমিশে থাকেন, তাদের রোগব্যাধি এবং অন্যদের তুলনায় সুস্থ জীবন যাপন করেন। এসব পরিবারের শিশুরা অত্যন্ত দায়িত্বশীল এবং প্রতিভাবান হয়ে ওঠেন। প্রত্যক মানুষের জীবনের শান্তির উৎস পরিবার। তাই পারিবারিক সম্পর্ক গুলো আমরা যেন কোন ভাবেই গুরুত্বহীন মনে না করি। পরিবারে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় কিন্তু পারস্পরিক বোঝাপড়া যদি অক্ষুন্ন থাকে তবে জীবন চলার পথে কোন চ্যালেঞ্জ বা প্রতিবন্ধকতা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারবে না।

মহামারীতে গৃহবন্দি থাকায় পারিবারিক বন্ধন বাড়াতে হবে। সময় কাটাতে হবে স্ত্রী, সন্তান ও পরিজন নিয়ে । বাবা-মা দুজনকেই সন্তানদের সময় দিতে হবে। পাশাপাশি বৃদ্ধ মা-বাবার পাশেও থাকতে হবে সর্বদা সন্তানদেরকে। এতে পারিবারিক যে সম্পর্ক তা মজবুত হবে। যে কোন পরিস্থিতিতে আমাদের পারিবারিক বন্ধন ধরে রাখতে হবে।বিশেষ করে খারাপ সময় গুলোতে যেমন অতি সম্প্রতি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) নামক একটা মহামারীর মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি । এই সময় গুলোতে আরও বেশি করে পরিবারের একে অন্যের পাশাপাশি, কাছাকাছি থেকে ভাল মন্দের খবর জানতে হবে। পরিবারের কেউ কোন মানসিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে কিনা । আমাদের উচিত মহামারীর অবসর সময়ে ভার্চুয়াল জগতে পড়ে না থেকে পরিবারের লোকদের সঙ্গে সময় কাটানো । তাদের বোঝার চেষ্টা করা । তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা। এছাড়াও আমরা নিচের বিষয়কে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে পারি ।

* প্রথমত, আমরা পরিবারের সকলের জন্য একটি রুটিন ঠিক করে দিতে পারি । যদিও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রুটিন মেনে কাজ মানুষ খুব কমই করে থাকে। তাও যথা সম্ভব চেষ্টা করতে হবে।

* বাড়ির ছোটদের নিয়ে পারিবারিক সিনেমা দেখা যেতে পারে, এতে করে তাদেরকে সময় ও দেওয়া হবে, এমনকি তারা বেশ খুশিও হবে। কিন্তু কথা হচ্ছে সবার বাসায় অভিজাতদের মত এলইডি টেলিভিশন নেই কিংবা ওয়াইফাইও নেই যে তারা নেটফ্লিক্স কিংবা ইউটিউবে সিনেমা দেখতে পারবে । তাদের মা বাবা কিংবা বড় ভাই বোনেরা লুডু, ক্যারাম ইত্যাদি খেলার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে বন্ধন অটুট রাখতে পারে।

* যেহেতু স্বাভাবিক সময়ে বাবা, বড় ভাই, বোনরা বেশিরভাগই বাইরে থাকে । সে কারনে তারা ঠিক পরিবারকে নিজেদের মন মত সময় দিতে পারে না, তাই এটাই আমাদের উপযুক্ত সময় বাড়ির অন্যদেরকে সময় দেয়া । সময়টা দেয়া যেতে পারে একসাথে বসে দুপুরের খাবার খাওয়া কিংবা একসাথে বিকেলে বাসার ছাদে বসে আড্ডা দিতে দিতে চায়ের কাপে চূমুক দেয়া।

* বাসার একমাত্র ব্যক্তি যিনি সবসময় চায় পরিবারের বন্ধনটা অটুট থাকুক। সে আর কেউ না, আমাদের শ্রদ্ধেয় "মা"। এই মানুষটা এইরকম চরম মহামারির সময় তার সন্তানের পছন্দের খাবারটি কিন্তু ঠিকিই বানিয়ে দিতে ভুলেন না। বরং সে এখন আরো মনোযোগ দিয়ে তার সন্তানদের খাবার খাওয়াতে উপভোগ করেন ও দেখতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশের বেশির ভাগ জায়গায় ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। কোন মা হয়তো দুপুরের খাবার জোগাড় করতে পারছে তো রাতেরটা জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে। নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়াচ্ছে। বন্ধন কিন্তু এতেও অটুট থাকে।

*হয়তো পরিবারে একজন আছে যে বিভিন্ন রকমের রান্না করতে খুব ভালোবাসে। কিন্তু কাজের চাপে বা পড়ালেখার জন্যে করা হয়ে ওঠে না, তারা কিন্তু এই নানা ধরনের রান্না করে পরিবারের সাথে একসাথে মিলে বন্ধনটি আরও মজবুত করতে পারে।

* " বাবা" যার সাথে হয়তো অনেকে ভয়ে কথা বলতেই পারে না। এই মহামারিতে এই বাবাও যদি সন্তানের সাথে বিভিন্ন রকম আলোচনা কিংবা তার ছোটবেলার কাহিনি কিংবা ছোটদের সাথে নানা রকম খেলাতে সময় দিতে পারে । তাহলে খুব সহজেই বাবা নামক গম্ভীর মানুষটিও কিন্শটিসবার কাছে খুব বেশি আপন হয়ে উঠে।

"পরিবার" নামক জিনিসটিই আসলে অনেক শক্তিশালী, এই পরিবারই পারে একটি ছেলে কিংবা মেয়েকে চরম বিপদ থেকে রক্ষা করতে, আবার পরিবারের সন্তানরাই পারে মা বাবার মুখে হাসি ফুটাতে। তাই মহামারিতে পরিবারের ভুমিকা কোন অংশে কম ভাবা দুঃস্বপ্ন।

Comments
No comment yet