বিয়ে করার পূর্বে জেনে নিন কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

বিয়ে করার পূর্বে জেনে নিন কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

পরিবার গঠনের প্রাথমিক ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল বিয়ে। বিয়ের মাধ্যমেই একজন নারী ও পুরুষ সামাজিক ভাবে সংসার করার স্বীকৃতি পেয়ে থাকেন। নারী-পুরুষের শারীরিক, মানসিক, আত্মিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক আস্থার নির্ভরশীলতা বিয়ের মাধ্যমে তৈরি হয়। বিয়েটা ধর্মীয়ভাবে ও সামাজিক রীতি হলেও এই সম্পর্ক স্থায়ী ও সুখী করতে উদ্যোগী হতে হয় দুজনকেই। বিয়ে নামক সম্পর্কের উপর নির্ভর করে একজন মানুষের পুরো জীবন। বিয়ে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই এটা খুব জরুরী সম্পর্কটাকে যত্ন করা, যত্নে রাখলে যেমন আগাছাও পরিপাটি দেখায় আর অযত্নে ফুল বাগান ও ধীরে ধীরে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। আর তাই বিয়ে নামক পবিত্র বন্ধনটাকে কিভাবে আরো সুন্দর করা যায় তার ই কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব এই লিখার মাধ্যমে। চলুন শুরু করা যাক……

নিয়মিত যোগাযোগঃ ব্যস্ততা আমাদের জীবনের গুরত্বপূর্ণ একটা অংশ। পরিবারের ভরণ পোষণের জন্য সবাইকে কোন না কোন কর্মের সাথে জড়িয়ে পরতে হয়। আর তখন ব্যস্ততা হয়ে দাঁড়ায় নিত্যদিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে যতই ব্যস্ততা থাকুক সঙ্গীনির দিকে অমনোযোগী হলে দাম্পত্য জীবনে কলহ বাসা বাঁধতে পারে সহজেই। আর তাই যেখানে আর যেভাবেই থাকুক না কেন সঙ্গীর খোঁজ নিন নিয়মিত। সে কি করছে? ঠিক ভাবে খাওয়া-দাওয়া করছে কিনা? এইসব ছোট ছোট ব্যপার গুলো সম্পর্ককে আরো মজবুত এবং দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে। তাই কর্ম ব্যস্ততা যতই থাকুক দুজন দুজনের খোঁজ খবর রাখার চেষ্টা করুন নিয়মিত ভাবে।

ঝগড়া হলে সতর্ক থাকুনঃ দাম্পত্য জীবনে ঝগড়া হবেই, এমন কোনো দম্পতি পাওয়া যাবেনা যাদের মধ্যে কোনোদিন ঝগড়া হয়নি। তবে ঝগড়া ঝামেলা যাই হয় না কেন এটাকে বাড়াবাড়ির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবেনা। ঝগড়ার সময় কখনো সঙ্গীর দুর্বলতা নিয়ে খোঁচা দিবেন না। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে এমন অবস্থায় নিবেন না যাতে একের প্রতি অপরের শ্রদ্ধাবোধ হ্রাস পায়। রাগ করে ভাঙ্গচুর, অথবা এমন কিছু করবেন না যাতে কলহ দীর্ঘস্থায়ী হয়। তাছাড়া গঠন মূলক আলোচনা এবং সঠিক মতামত গ্রহন করার মত মনমানুষিকতা তৈরী করতে হবে। সর্বোপরি একে অপরকে বুঝতে এবং ছাড় দেয়ার মনমানুষিকতা তৈরী করতে হবে।

আলোচনায় সমাধানঃ যেকোনো সমস্যাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য। ব্যক্তি জীবনে সমস্যার শেষ নেই, একের পর এক নানান সমস্যা মোকাবিলা করতে হয় প্রতিদিন। ঠিক তেমনি পারিবারিক জীবনেও নানান চড়াই উৎড়াই পার হতে হয় প্রতিনিয়ত। অনেকে মনে করেন সকল সমস্যা বুঝি তিনি নিজেই সমাধান করার ক্ষমতা রাখেন। এটা আসলে ভুল ধারণা। যেকোনো সমস্যায় আপনার সঙ্গীর সাথে আলোচনা করে নিলে সহজেই এর সমাধান পাওয়া যেতে পারে। অন্যের মতামত কে সম্মান এবং গ্রহণ করার মাধ্যমে সহজেই সুন্দর একটা দাম্পত্য জীবন গড়ে তোলা যায়। দুজনের দুটি পথ তৈরি করার কী দরকার? হোক না পরস্পরের প্রতি তুমি যে আমার অনুভূতি। তাতে ক্ষতি কী। বরং লাভই বেশি। মিলিত শক্তিই তো ঐক্যতান শোনাবে।

মানিয়ে নিন সঙ্গীর সাথেঃ আমরা প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জন্মাই। আমাদের সবার ই চিন্তা ভাবনা দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হয়। বিয়ের পর এটাকে মানিয়ে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সবাই নিজের মত হবে ভাবা বোকামি আর তাই তো সুখী বিবাহিত জীবনে সঙ্গীর চিন্তা চেতনা অথবা দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করাই শ্রেয়। সঙ্গীর ভালোটুকু নিবেন খারাপটুকু গ্রহণ করতে পারবেন না তা যেন না হয়। তাই একসঙ্গে একই পথে চলতে গেলে হয়ত জীবনসঙ্গীর কোনও বিষয় আপনার পছন্দ নাও হতে পারে। কিন্তু তাই বলে তা নিয়ে সঙ্গীকে বারবার উত্ত্যক্ত করা উচিত নয়। এতে সম্পর্কে ভাঙ্গন ও ধরতে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয় পরস্পরের ভুলকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই বাস্তবায়িত হবে বাঁকা হোক তবু আমার।

রোমান্স করুন প্রাণ খুলেঃ রোমান্টিকতা না থাকলে জীবন হয়ে যাবে পানসে। তাই সুখী দাম্পত্যজীবনে রোমান্সের বিকল্প নেই। সঙ্গী কে ভালবাসুন, আড্ডা দিন, মাঝেমাঝে ঘুরতে নিয়ে যান। শারীরিক সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দূরত্ব ঘুছাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তবে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সঙ্গীর মতামত কে প্রাধান্য দিন। মনে রাখবেন, বিয়ের পর স্বামী–স্ত্রী পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল হতে চান। সুতরাং সেই দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে।‌ শুরু মাত্র শারীরিক সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে দাম্পত্যজীবন চলতে পারেনা, তবে শারীরিক সম্পর্ক অবশ্যই অপরিহার্য একটা সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবনে।

উপরি উক্ত বিষয় গুলো মেনে চললে আশা করি দাম্পত্য জীবন আর সহজ ও সুন্দর হবে। একটা সুন্দর পরিবার অপরিহার্য সকলের জন্য। তাই স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা ও সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে বিবাহিত জীবন কে আরো সুন্দর ও অর্থবহ করা যায়।

Comments
No comment yet