বিয়ের আগে কনের প্রাথমিক প্রস্তুতি

বিয়ের আগে কনের প্রাথমিক প্রস্তুতি

বিয়ে প্রতিটা মেয়ের জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। প্রতিটি মেয়ের মনেই বিয়ের আয়োজন নিয়ে আগে থেকে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকে। তবে বিয়ের আগে নানা কর্ম ব্যস্ততা আর মানসিক চাপে চেহারায় ক্লান্তি ভাব লক্ষ্য করা যায়। তাই আগে থেকে ত্বকের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। বিয়ের মতো বিশেষ মুহূর্তে বর কনের দিকেই সবার দৃষ্টি থাকে। আর তাই এ সময়ে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং সুন্দর দেখাতে চাই বিয়ের আগ থেকেই বিশেষ পরিচর্যা। সব মেয়েই চায় বিয়ের দিন আর সবার থেকে তাকেই সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং সুন্দর লাগুক। অনেক মেয়েই মনে করে বিয়ের এক সপ্তাহ আগে, পার্লারে গিয়ে পা থেকে মাথা পর্যন্ত একটা ফুল ব্রাইডাল প্যাকেজ করে নিলেই হবে। কিন্তু আদতে সেটা কোনো কাজেই লাগেনা।

বর্তমান বিয়ে গুলোতে এর আয়োজনের অধিকাংশ চাপ এসে পড়ে বর-কনের ওপর। বিয়ের শপিং, অনুষ্ঠান আয়োজন, প্ল্যানিং ছাড়াও নতুন জীবনে প্রবেশের ভয়ভীতিসহ নানা চিন্তা এসে মাথায় ভর করে। তাই সব মিলিয়ে উভয়ের চোখেমুখে থাকে ক্লান্তির ছাপ। মুখ ও শরীরের ত্বকে দেখা দেয় নানা সমস্যা। অনেক রূপ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের অন্তত ১৫ দিন আগে থেকে মেয়েদের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। তাহলে বিয়ের দিন তাকে আরও বেশি সুন্দর ও প্রাণবন্ত দেখাবে। যেহেতু বিয়ে বিশাল একটি ব্যাপার তাই এর প্রস্তুতি নেয়াটাও অনেক জরুরী। আজকে জেনে নিব বিয়ের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে কনের কি কি করণীয়।

জীবনযাত্রায় পরিবর্তনঃ বিয়ের আগে ও পরে নানা ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয় প্রতিটা ছেলে মেয়েকে। বিশেষ করে মেয়েদের জীবনে বেশি পরিবর্তন আসে আর তাই কম করে তিন মাস সময় হাতে রেখে বিয়ের প্রস্তুতি শুরু করতে পারলে মেয়েদের জন্য ভালো হয়। এই সময়টাতে নিজের শরীরের যত্ন নিতে হবে। যোগব্যায়ামসহ অন্যান্য ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শরীরের বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। প্রত্যেকের কিছু অভ্যাস থাকে যেমন রাত জাগা, সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশি সময় ব্যয় করা, কাজের আর পড়াশোনার চাপ ত থাকেই। তাই আগে থেকে রাত জাগার অভ্যাস পরিহার করুন। রোদে কম যাওয়ার চেষ্টা করুন। হাতে কিছু সময় রেখে মাঝেমধ্যে পার্লার থেকে নিজেকে রিল্যাক্স করেও আসতে পারেন।

পরিমিত খাওয়া-দাওয়াঃ পরিমিত খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। যদি সামনে বিয়ে নিয়ে পরিকল্পনা থাকে এটা আরো বেশি প্রয়োজন। কেননা পরিমিত খাদ্যাভাসের বিকল্প নেই। এসময় সুষম খাবারের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন। খাবারের সময় ভিটামিন ‘এ’ ও ‘বি’ আছে এমন ধরনের খাবার খেতে হবে বেশি বেশি। অতিরিক্ত পানি, শাকসবজি, দুধ, দই, পনির, টমেটো, গাজর খেতে হবে। ভাজা পোড়া খাওয়ার অভ্যাস থাকলে পরিত্যাগ করতে হবে। প্রতিদিন অ্যালোভেরার রস খেতে পারেন এতে ত্বকের অনেক উপকার হয়।

ত্বকের যত্নঃ বিয়ের আগে থেকেই বাসায় নিজের ত্বকের যত্ন নিতে হবে নিয়মিত এতে ত্বক উজ্জ্বল দেখাবে এবং চেহারায় একটা কোমল ভাব আসবে। ত্বক পরিষ্কার, টান টান ভাব বজায় এবং উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ফেসিয়ালের কোনও বিকল্প নেই। ত্বকের ধরন অনুযায়ী এর পরিচর্যায় ফেসিয়াল এক কার্যকর উপায়। তাই বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হলে ভালো কোনো পার্লারে গিয়ে দক্ষ হাতে ফেসিয়াল করে নিন। ফেসিয়াল করতে হবে অন্তত ১ মাস আগে। তারপর ১৫ দিন পর আবার ম্যাসাজ ও ব্লিচ করে নিন। বিয়ে নিয়ে নানা দুশ্চিন্তায় ত্বক সহজেই তার স্বাভাবিক আদ্রতা হারায়। এজন্য নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিতে হবে। শুষ্ক ত্বকের জন্য দুধের সর, মসুর ডাল ও মধু দিয়ে প্যাক তৈরি করতে পারেন। কাঠবাদাম, হলুদ, দুধের সর ও মধু দিয়ে প্যাক তৈরি করুন। শুধু অ্যালোভেরার রসও ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া তৈলাক্ত ত্বকের জন্য টকদই ও বেসনের প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে শুধু কমলার রস নিয়ে তুলা দিয়ে মুখে লাগিয়ে নিতে পারেন। তবে মুখে ব্রণ থাকলে কমলার রস ব্যবহার না করাই ভালো।

হাত ও পায়ের যত্নঃ বিয়ের দিন বা তার আগে পরে সবাই হাতের এনগেজমেন্ট রিং দেখতে চায়। তখন হাতে যদি ঠিকঠাক ম্যানিকিউর না করা থাকে, তাহলে আংটি যতই উজ্জ্বল হোক, ভালো কিন্তু দেখাবে না। হাত বা পায়ের ক্ষেত্রে পার্লারের পাশাপাশি বাসায় বসেও নিতে পারেন এর যত্ন। রোদে যাওয়ার আগে হাতে পাশে লোশন বা সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। হাত-পায়ের কালো ছোপ দূর করতে পাতিলেবুর রস ও চিনি মিশিয়ে লাগাতে পারেন। চালের গুঁড়া, দুধ, মধু, গাজর, জলপাই তেল, কাঁচা হলুদ ও শসার রস মিশিয়ে নিয়ে হাত ও পায়ে ব্যবহার করতে পারেন। বিয়ের এক-দেড় মাস আগে নখ বড় রাখতে শুরু করতে পারেন। তবে খুব বেশি বড় নখ না রাখাই ভালো।

শারীরিক প্রস্তুতিঃ বিয়ের আগে শারীরিক ভাবে ফিট থাকা অনেক জরুরী। খাদ্যাভাস আগে থেকেই পরিবর্তন করে নিতে পারলে তো খুবই ভালো। নিজেকে ফিট আর উচ্ছল রাখার জন্য তাজা ফলের রস খেতে পারেন। তাছাড়া শারীরিক কোন সমস্যা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। একদম শুয়ে বসে না থেকে টুকটাক কাজ করুন। এতে করে অল্পতেই ক্লান্তি ভাবটা চেহারার ভর করবেনা।

মানসিক প্রস্তুতিঃ বিয়ের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে বিয়ের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেয়া। এটা অনেক বেশি গুরত্ব বহন করে হোক সেটা নিজের পছন্দের বিয়ে কিংবা বাবা মায়ের পছন্দে বিয়ে। অনেক ছেলে মেয়ের ই পূর্ণ ধারণা থাকেনা। বিয়ের পর অনেক দায়িত্ব এসে হাজির হয় সেসবকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য নিজেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করতে হবে। মেয়েদের ক্ষেত্রে ছেলের পরিবারের ছোট বড় সকলের সাথে মানিয়ে চলার মন মানসিকতা বিয়ের আগে থেকেই তৈরী করে নেয় উচিত। নিজের, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববান হতে হবে। নিজের স্বভাবের কোনো নেতিবাচক দিক থাকলে সেগুলো সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। নিজের সব দিক নিয়ে বিয়ের আগে উভয়ে আলোচনা করলে বোঝাপড়ার শুরুটা ভালো হবে। সুখী দাম্পত্য জীবন কে না চায়? সুন্দর মানসিক প্রস্তুতি ই পারে বিয়ের পর জীবন কে সুন্দর করে পরিচালনা করতে। এসব ক্ষেত্রে শুধু মেয়েরাই মানিয়ে চলবে তা নয়, ছেলের পরিবারকেও এ বিষয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।

পরিশেষে, যেকোনো কাজের শুরুতে সঠিক প্রস্তুতি কাজটি আরো সুন্দর ও গুছিয়ে করতে সাহায্য করে। যেহেতু বিয়ে আমাদের সবার জীবনের অনেক বড় একটি ঘটনা তাই এর জন্য নিজেকে আলাদা ভাবে প্রস্তুত করাও অনেক জরুরী। এতে করে বিয়ে পূর্ব ও পরবর্তী ধকল সহজে সামলিয়ে সুন্দর একটা দাম্পত্য জীবন গড়ে তোলা যায়।

Comments
Rased Faiyaj  said 2 weeks ago
Helpful tips for girls..