জেনে নিন ওয়েডিং ফটোগ্রাফির এপিঠ ওপিঠ

জেনে নিন ওয়েডিং ফটোগ্রাফির এপিঠ ওপিঠ

সময়ের পরিক্রমায় বিয়ের নানান রীতিনীতির পাশাপাশি বিয়ের আয়োজনেও এসেছে ভিন্নতা। নানান আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় একেকটি বিয়ের অনুষ্ঠান। ধনী গরীবের বিয়ের আয়োজনে নানান পার্থক্য থাকলেও ওয়েডিং ফটোগ্রাফি ছাড়া আজ কোনো বিয়ে যেন কল্পনাও করা যায়না। তাই ওয়েডিং ফটোগ্রাফি জানাশুনা থাকা আজকাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যারা সামনে বিয়ের পরিকল্পনা করছেন তাদের জন্য জানাটা আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জীবনের সুন্দর মুহূর্ত গুলোকে সাজিয়ে রাখতে ওয়েডিং ফটোগ্রাফির বিকল্প কিছু নেই।

পরিচিত গণ্ডির মধ্যে ছবি নিয়ে হাত ভালো এমন কেউ থাকলে আগেভাগে জানিয়ে রাখুন। পরিচিত হ‌ওয়ার কারণে ছবি তোলার সময় স্বস্তি এবং সুবিধা দুটিই পাবেন। অন্যদিকে কারো কাছে প্রফেশনাল ক্যামেরা থাকা মানেই যে সে ভালো ছবি তুলতে পারে ব্যপারটা টা নয়। তাই ভালো ছবি তুলতে পারে কিনা সেই বিষয়টি মাথায় রাখুন। কারণ আপনার জীবনের সব চেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো যার ক্যামেরায় ফুঠে উঠবে তার ফটোগ্রাফি জ্ঞান থাকাটাও জরুরি।

আমাদের বাঙালি বিয়েতে সাধারণত তিনটি অনুষ্ঠান হলেই থাকে। সেগুলো হল গায়ে হলুদ, বিয়ের মূল পর্ব আর সর্বশেষে বৌ ভাত। আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখুন প্রতিটি দিনের জন্য ফটোগ্রাফার ঠিক করবেন নাকি কেবল মাত্র বিয়ের দিনের জন্য অথবা হলুদের জন্য ফটোগ্রাফার ঠিক করবেন। এই সব বিষয় আগে থেকে জানা থাকলে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়। এছাড়াও আজকাল প্রত্যেকটা ফটোগ্রাফারের কাজ গুলো ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়। দরকার হলে যাকে নিতে চাচ্ছেন তার কাজ গুলো একবার দেখে আসুন। ইভেন্টের আগেই ফটোগ্রাফারের সাথে কথা বলে নিন।

আপনার বিয়েতে অনেক আত্মীয় স্বজন সহ বন্ধু বান্ধব উপস্থিত থাকবেন। তাদের প্রত্যেকের কাছেও স্মার্টফোন থাকবে। তাই শুধুমাত্র ফটোগ্রাফারের ছবির জন্য পোজ দিয়ে বসে থাকবেন আর অন্যদের জন্য পোজ দেবেন না সেটি কিন্তু ঠিক হবে না। কারণ শত শত ছবির মধ্য থেকেই হয়ত পেয়ে যাবেন আপনার সবচেয়ে পছন্দের ছবিটি। কোন অদক্ষ হাতের স্মার্টফোনে হয়ত ওঠে যাবে আপনার সেরা ছবিটি। তাই সকলকে সুযোগ করে দিন আপনার ছবি তুলতে।

ছোট ছোট রীতিনীতির মাঝেই বাঙালি বিয়ের সৌন্দর্য। তাই সকল নিয়ম কানুন আর রীতিনীতির মুহূর্ত গুলো সযত্নে ক্যামেরাবন্দি করুন। আপনার ফটোগ্রাফারকে বলে রাখুন ছোট ছোট সব নিয়ন কানুন আর রীতিনীতি পালনের সময়কার স্মৃতিগুলো যেনো সযত্নে ক্যামেরাবন্দি করে রাখেন। কারণ এই স্মৃতি আর কোনদিন ফিরে আসবেনা। প্রতিটি মুহূর্ত ভবিষ্যতে আপনার স্মৃতির মণিকোঠায় ভেসে আসবে। তাই বিয়ের অ্যালবাম থেকে যেন নিয়নকানুন আর রীতিনীতির ছবিগুলো যত্ন নিয়ে তুলেন সেটি ফটোগ্রাফারকে বলে রাখুন।

সিম্পল এবং বেশি জমকালো আয়োজন অপছন্দ হলে জেনেশুনে ফটোগ্রাফার ঠিক করুন। কারণ আজকাল দেখা যায় ওয়েডিং ফটোগ্রাফি যেনো একটা একটা স্বল্পদৈর্ঘ্যের সিনেমা। তাই আজকাল সিম্পল এবং স্বতঃস্ফূর্ত ছবি তোলায় পঠু এমন কাউকে পাওয়া মুশকিল। আজকাল ফটোগ্রাফাররা সিনেমার ডিরেক্টরদের মত নির্দেশনা দিয়ে থাকেন, যা আপনার জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। তাই আপনার চাহিদার কথা মাথায় রেখেই ঠিক করুন আপনার বিয়ের ফটোগ্রাফার।

অনেক বছর পর যখন পাশে কেউ থাকবেনা, তখন স্মৃতির এই অ্যালবামটা হয়ত আপনার মুখে এক চিলতে হাসি এনে দেবে। তাই সযত্ন এবং সুচিন্তা দিয়ে সাজানো হোক আপনার ওয়েডিং ফটোগ্রাফির অ্যালবামটা।

Comments
Md. Mohaimenul Reza  said 2 months ago
Informative
Yahia Islam  said 3 months ago
Nice 👍☺️👌