যেসব ভুলে পণ্ড হতে পারে আপনার বিয়ের সাজ

যেসব ভুলে পণ্ড হতে পারে আপনার বিয়ের সাজ

একটি বিয়েতে সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে কনে। তাই কনের সাজ হওয়া চাই একদম আলাদা এবং ইউনিক। যাতে করে সবাই দেখেই বলতে পারে এটাই কনে। আমাদের দেশে সাধারণত কনের সাজের জন্য সবাই বিউটি পার্লারের শরণাপন্ন হন। কিন্তু এখন দেখা যায় আমাদের দেশের বিয়ে গুলোতে অনেক গুলো প্রোগ্রাম হয় যার ফলে সবগুলো প্রোগ্রামে বিউটি পার্লারে গিয়ে অনেকের পক্ষে সাজা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই কিছু জিনিস নিজে শিখে নিজের সাজটা নিজেই দেওয়া যায়। কিন্তু পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে নিজে সাজতে গেলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছোট ছোট ভুল হয়ে যায়। আবার কিছু মারাত্মক ভুলের জন্য পুরো সাধের সাজটাই নষ্ট হয়ে যায়। এমন কিছু ভুলের আলোচনা করতেই আজকের এই আর্টিকেল।

বিয়ের সাজ ও পারিপার্শ্বিক বিষয়াবলী

যেহেতু বর্তমানে আমরা অত্যন্ত ব্যস্ত এবং যান্ত্রিক জীবন কাটাচ্ছি। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে টেনশন ক্লান্তি বয়ে বেড়াই। আমাদের জীবনচলার বিভিন্ন মানসিক চাপ এই স্ট্রেসের কারণ হতে পারে। পরিবেশগত কারণও একটি বড় কারণ যেমন- বিশুদ্ধ বাতাস ও প্রাকৃতিক পর্যাপ্ত আলোর অভাবেও অনেক সময় আমাদের শরীর ও মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তা ছাড়া এখনকার দিনে খাবারে ভেজাল, ক্যাফেইন, ধূমপান, এলকোহল ইত্যাদি নানাবিধ কারণ মানুষের জীবনকে করে তোলে স্ট্রেসপূর্ণ, টেনশন, ক্লান্তি ও অবসাদময়। বিয়ে দিনটি প্রতিটি কনের কাছে আনন্দের এবং ওই একটি দিনকে ঘিরেই সব ব্যস্ততা, চিন্তাভাবনা চলে পুরো আগের ৬ মাস ধরে। বিয়ের আগে কনের প্রয়োজন শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো থাকার প্রচেষ্টা। এ দিনটি যেন সুন্দর, সুস্থ পরিকল্পিতভাবে কাটে সে কামনায় আপনাদের সামনে নিয়ে এসেছি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেসব এড়িয়ে চললে সুন্দর হোবে আপনার বিয়ের সাজ।

১. অতিরিক্ত মেক আপ

অতিরিক্ত সবকিছুই সাধারণত খারাপ হয়ে থাকে। তেমনি অতিরিক্ত মেক আপও আপনার শাজটাকে পণ্ড করে দেয়। বিয়ের সাজটা সর্জিয়াস এবং ইউনিক করতে গিয়ে অনেকই অতিরিক্ত মেক আপের বুঝা মুখের মধ্যে চাপিয়ে দেন। এতে করে চেহারার ন্যাচারাল ভাবটাই চলে যায়। এছাড়াও অতিরিক্ত মেক আপের কারণে অনেক সময় চেহারা ফ্যাকাশে এবং কৃত্রিম দেখায়। প্রতিটি মেয়েরই নিজস্ব একটি লুক থাকে যেটাকে অনেক সময় ন্যাচারাল লুক বলা হয়। মেকআপ করার সময় সেই ন্যাচারাল লুকটা ফুটিয়ে তোলা দরকার। তা না হলে পুরো ব্যাপারটি কৃত্রিমতায় হারিয়ে যাবে।

২. প্রস্তুতি ছাড়া মেকআপ নেওয়া

বিয়ে সব মেয়ের জীবনের অনেক কাঙ্খিত একটি দিন। সেই দিনটির জন্য অনেকদিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। নিজের মুখমন্ডলকে বিয়ের দিনের সাজের উপকারী করে গড়ে তুলতে পূর্ব প্রস্তুতি দরকার। তাই বিয়ের আগে থেকেই নিজের নিজের মুখমন্ডলের আলাদা যত্ন নিন যাতে করে বিয়ের দিন সেটি কনের সাজের উপযোগী হয়ে ওঠে। এছাড়াও ফাইনাল মেকআপের আগে একবার ট্রায়াল দিয়ে দেখা উচিত যাতে করে আগেই একটা ধারণা পাওয়া যায় আপনাকে সেই সাজে কেমন লাগে। এই দুই রকম প্রস্তুতি না নিলে আপনি যেই বিয়ের সাজটা চাচ্ছেন সেটি নাও আসতে পারে।

৩. ভুল জায়গায় ব্লাশের ব্যবহার

আজকাল ব্লাশের ব্যবহার অনেক বেশি হয় কনের সাজে। গালে সামান্য লাল অথবা গোলাপী অনার জন্য ব্লাশের ব্যবহার অনেক উপকারী। চেহারার অন্যান্য মেকআপের সাথে মিল রেখে ব্লাশের ব্যবহার করলে তা অনেক সুন্দর দেখায়। আবার অনেক সময় ব্লাশের ব্যবহার যথাযত স্থানে না হওয়ার কারণে পুরো সাজটাই বিগড়ে যায়। তাই আপনার মুখের কোন জায়গায় ব্লাশ লাগাতে হবে সেটি ঠিকভাবে বুঝে নিন।

৪. ভুল আইল্যাশ

চোখ নাকি মনের কথা বলে। তাই চোখকে আকর্ষণীয় করতে আইল্যাশ ব্যবহার হালের ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। বাজারে এখন বিভিন্ন সাইজ এবং ডিজাইনের আইল্যাশ পাওয়া যায়। কিন্তু সঠিক মাপের এবং ডিজাইনের আইল্যাশ ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার চোখের পাপড়ির আকার, চোখের গঠন ইত্যাদি বিবেচনা করে আইল্যাশ ঠিক করা দরকার। তা না হলে যেমন তেমন আইল্যাশ ব্যবহার করার কারণে পুরো সাজটাই নষ্ট হয়ে যাবে।

৫. ভারী ফাউন্ডেশন

বিয়ের সাজের একটি অন্যতম অনুষঙ্গ হল ফাউন্ডেশনের ব্যবহার। আপনার গায়ের রঙ যেমনই হোক না কেন, বিয়ের সাজে বেশি ভারী ফাউন্ডেশন ব্যবহার না করাই উত্তম। ভারী ফাউন্ডেশন ব্যবহারে আপনার ন্যাচারাল সতেজতা ভারী ফাউন্ডেশনের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়। এছাড়াও চেহারা ঘামলে ভারী ফাউন্ডেশনের জন্য পুরো সাধের সাজটাই নষ্ট হয়ে যাবে। বিয়ের দিন কনেরা কান্নাকাটি করে থাকেন, যেটি আমাদের দেশে খুবই নরমাল একটি ঘটনা। তাই চোখের পানিতেও ভারী ফাউন্ডেশন গলে গিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। ভারী ফাউন্ডেশন অনেক সময় ত্বকের জন্যও ক্ষতিকর। তাই ভারী ফাউন্ডেশনের ব্যবহার এড়িয়ে চলাই উত্তম।

৬. অতিরিক্ত গরমকালে বিয়ে করা

এ দেশের যা আবহাওয়া, শীত বাদে বাকি সময়টায় মেকআপ লাগিয়ে সাজলে মুশকিল। ঘেমে সব গলে গলে পড়ে সব সাজ। তাই কনের সাজ হোক বা বরের, শীতে যেমন খুশি সাজো, কুছ পরোয়া নেহি। বর-কনে ছাড়া বাকিরাও বিয়ে বাড়ির সাজের আনন্দ নিতে পারে চুটিয়ে।

উপোসের জন্য শীতকালই বেস্ট। সেই কোন ভোরে খই দই খেয়ে সারাদিন উপোস, গরমে সইবে? শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে বিয়ের সময় মাথা ঘুরিয়ে একশা। কিন্তু শীতে উপোসটা কোনও ব্যাপারই নয়। কখনো ভেবে দেখেছেন যে শীত আসলেই বিয়ের এত হুরোহুরি পরে কেন বছরে তো আরো মাস আছে তাহলে সেই সব মাসে কম কেন।

একটি বিয়ের বাড়িতে আয়োজন করতে হলে কতকিছুই না করতে হয়। রাত জাগা, প্রভৃতি উত্পাতে এনার্জি খরচ হয় বিস্তর। তাই শীতই সই। শীতে অনেক কাজ করলেও এনার্জিতে ঘাটতি দেখা যায় না। কৃত্রিম ফুলের প্রয়োজনও হয় না শীতকালে। ডালিম, রজনীগন্ধা, অর্কিড, গাঁদা, গোলাপ, জুঁই - সব টাটকা টাটকা পাওয়া যায় হাফ দামে। এবেলা সাজালে ওবেলায় পচে যায় না।

মনে রাখবেন, বিয়ে অনেক মাধুর্য পূর্ণ দিন আপনার জীবনে। এটি যেভাবে হোক, আনন্দে এবং সন্তুষ্টির সাথে কাটান। এতে কোনো আক্ষেপ বা কষ্ট ঘর করতে দিবেন না।

Comments
No comment yet