বুদ্ধিমত্তার সাথে সহজেই বিয়ের খরচ বহন করার কিছু টিপস

বুদ্ধিমত্তার  সাথে সহজেই বিয়ের খরচ বহন করার কিছু টিপস

বলা হয়ে থাকে বিবাহ স্বর্গে করা হয়, তবে ব্যয়গুলি অবশ্য পৃথিবীতেই বহন করতে হবে। বিয়ে মানেই উৎসবের আমেজ, প্রচুর লোক সামাগম। আর নানান দিকের নানান খরচের মাঝে বিয়েতে খরচের হিসেব রাখাটা খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার। বিয়ে মানেই ধরে নেয়া যায় বিশাল খরচ। একটি সুন্দর বিবাহ আজ 10 লক্ষ টাকার উপরে উঠতে পারে, আবার তার চেয়ে বেশিও হতেই পারে এখনকার যুগে! তবে এটি পুরোপুরি নির্ভর করে আপনার পছন্দ, ইচ্ছে, চাহিদা, সামর্থ্য এবং আরও অনেক কিছুর উপর।

কিছুই পরিবর্তিত হয়েছে বলে মনে হয় না, বিশেষত যখন এটি আসে যে কে বিবাহের ব্যয় বহন করবে। অভিভাবকরা বছরের পর বছর ধরে তাদের সঞ্চয়ীকরণের সাহায্যে এটি চালিয়ে যান। বাচ্চারা এখনও তাদের নিজষর বিবাহের ব্যয়টি আংশিকভাবে পূরণ করতে অনিচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে এই প্রবণতাটি শীঘ্রই খুব শীঘ্রই পরিবর্তিত হবে বলে মনে হচ্ছে না। তবে এটি সন্তানের ও দায়িত্ব নিজের বিয়ের দায়িত্ব সম্পূর্ণ না হলেও আংশিক বুঝে নেয়া। অনেকে যদিও খুব মন থেকে নিজেই এসব কাজ সেরে ফেলেন বাবা মায়ের উপর কোন বোঝা না দিয়েই।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা মনে রাখা একান্তই জরুরিঃ

অনুষ্ঠান করা, মেহমান দাওয়াত দেয়া, গান বাজনা বিশাল আয়োজন। এত এত খরচের ভয়ে অনেকেই আজকাল বিয়ের কথা ভাবলেই পিছিয়ে যায়। বিয়েতে খরচের অনেকটাই যায় বর কনের কেনাকাটায়। বিয়ের আগের দিন, বিয়ের দিন কিংবা রিসিপশনে কে কি পরবে তা নিয়ে ব্যাতিব্যস্ততার নেই কোনো ঠিক। সব ছেলে মেয়ের মনে সুপ্ত ইচ্ছা থাকে বিয়ের দিন কে কি পরবে, কে কোন ডিজাইনের ,রঙের পোশাক পরবে তা নিয়ে।

কিন্তু যতই পরিকল্পনা থাকুক না কেন অর্থ সল্পতায় সব সময় সব ইচ্ছা পূরণ হয় না। তারপর ও বুঝে শুনে কেনাকাটা করার মাধ্যমে অনেক ভাবেই অর্থের সাশ্রয় করা যায়। আজকে আমরা আলোচনা করব কিভাবে বর কনের কেনাকাটার খরচ কমানো যায়। সঠিক ভাবে একটু বুদ্ধিমত্তার সহিত কেনাকাটা করতে পারলে অনেকাংশেই করা যায় অর্থের সাশ্রয়। চলুন জেনে নেয়া যাক কিভাবে কমিয়ে আনা যায় বর কনের কেনাকাটার খরচ।

সীমিত বাজেট করে কেনাকাটা করা জরুরিঃ কেনাকাটা করার পূর্বে প্রত্যেকটা ক্যাটাগরি ধরে বাজেট করে নিলে এতে অর্থ সাশ্রয় করা যায়। এতে করে নিজের বাজটের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত পণ্য খুঁজে পাওয়া যায় সহজেই। এতে করে কোনো একটার জন্য বেশি টাকা খরচ করে অন্যটা বাদ যাওয়ার সম্ভবনা থাকে না।

বাজেট বুঝে খাবারে বৈচিত্রতা আনুনঃ বিয়ে বাড়িতে অতিথিদের খুশি করার প্রধান উপায় ভাল খাবার পরিবেশন করা। বিয়েতে খাবারে প্রচুর টাকা খরচ হয়। তাই অহেতুক বেশি পদ না বাড়িয়ে খাবারে বৈচিত্র আনুন। অল্প আইটেমের মধ্যেই সুস্বাদু খাবার পরিবেশনের চেষ্টা করুন। ট্রাডিশনাল খাবারের আয়োজন করতে পারেন। অথবা কোন ক্যাটারিং সার্ভিসের উপর ভার না দিয়ে নিজেরাও খাবারের আয়োজন করতে পারেন।

বর-কনের নিজের পছন্দে কেনাকাটা হোকঃ সাধারণত দেখা যায় কনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হয় বরের বাড়ি থেকে এবং বরের পোশাক পরিচ্ছদ আর যা যা লাগে পাঠানো হয় কনের বাড়ি থেকে। প্রায় ই দেখা যায় তত্ত্ব পাঠানোর আগে কেউ ই দেখতে পারে না কার জন্য কি কেনাকাটা হলো। কিন্তু এতে করে দেখা যায় বিয়ের পোশাক বা কিভাবে নিজেকে বিয়ের দিন সাজাতে চায় সেই স্বপ্ন অপূর্ণ ই থেকে যায়। দেখা যায় কনের ইচ্ছে বিয়েতে পরবে লেহেঙ্গা কিন্তু তার জন্য পাঠানো হল বেনারসি এতে মন খারাপ হওয়াটাই স্বভাবিক। বরের বেলায় ও একই কথা খাটে। তাই অর্থ সাশ্রয় এবং নিজের পছন্দসই কেনাকাটার জন্য দুই পরিবারের ই উচিত বর-কনের কেনাকাটার বর-কনের নিজের পছন্দে করতে দেয়া।

বিয়ে এর কিছু আয়োজন বাসাতেই করুনঃ সম্ভব হলে এনগেজমেন্ট, গায়ে হলুদ বা মেহেদি সন্ধ্যার মত আয়োজনগুলো বাসায়ই সেরে ফেলুন। আলাদা করে কনভেনশন হল অথবা রেস্টুরেন্টের ভাড়ার খরচ বাঁচবে। আপনার বাসাকেই সুন্দর করে সাজিয়ে বেশ ভালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করুন।

নিতে পারেন ভাড়ায় পোশাকঃ অনেক বরকেই দেখা যায় শেরওয়ানী শুধু বিয়ের দিন ছাড়া আর কোনো দিন পরেন না। তাই যেই জিনিস ব্যবহার ই করা হয় না সেখানে অনেক টাকা খরচ করে কেনার চাইতে আজকাল ভাড়ায় অনেক ভালো ভালো শেরওয়ানী পাওয়া যায় নিয়ে নিতে পারেন দু একদিনের জন্য। এতে বেশ ভালো অংকের অর্থ সাশ্রয় হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

বিয়ে ফটোগ্রাফিঃ ওয়েডিং ফটোগ্রাফি বিয়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নামকরা সংস্থা বা পেশাদার ফটোগ্রাফারকে দিয়ে ছবি তুললে এখন প্রচুর খরচ হয়। খরচ কমাতে ফটোশ্যুটের জন্য খুঁজে বের করুন নবীন ফটোগ্রাফার। কম খরচে তাদের কাছ থেকে ভালো কাজ পাবেন। এরা অনেক যত্ন সহকারে কাজ করে। ফ্রেশারদের মাথায় আধুনিক ছবি তোলার কৌশল কাজ করে বেশি। চাইলে ছোট ভাই, বোনকে দিয়েও ছবি তোলাতে পারেন।

পরিবারের গয়নায় হোক বিয়েঃ অনেক মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির ই বিয়ের সময় কনেকে সোনার গয়না কিনে দিতে পারে না। তাই যেটা করতে পারেন তা হলো এই মুহূর্তে যদি বিয়েতে কনে কে খুব বেশি স্বর্ণ দেওয়ার সামর্থ্য না থাকে তবে আপনার পরিবারের স্বর্ণ অর্থাৎ আপনার মা অথবা বড় বোনের গহনা দিয়ে বিয়ে করে ফেলুন। কিন্তু স্বচ্ছতা অবশ্যই রাখবেন সম্পর্কে, তাই তাকে আগেই জানিয়ে রাখুন পুরো ব্যাপারটি যে এই স্বর্ণ শুধুই বিয়ের দিনের জন্য তাকে দেওয়া হচ্ছে। তখন আপনাকে এখনই সব স্বর্ণ কিনতে হবে না। এতে করে বিয়ের খরচ ও কমে আসবে, পরে সময় সুযোগ করে সঙ্গীকে কিনে দিতে পারেন তার চাহিদা আর সাধ্যের মধ্যে গহনা।

বিলাসিতা থেকে প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিনঃ কেনাকাটার সময় অযাচিত বিলাসিতা পরিহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কেনাকাটার সময় বেশি টাকা দিয়ে কোনো জিনিস কিনলেই যে তা ভালো কিংবা দীর্ঘস্থায়ী হবে তা কিন্তু নয়। সাধ ও সাধ্যে কথা বিবেচনা করে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস ই কিনুন। আর অনেক কিছু একসাথে কিনতে হবে এর মানে এই না যে যেটা প্রয়োজন নেই সেটাও কিনবেন। বর বা কনে যার জন্যই কিনুন আগে জেনে নিন সে এটা ব্যবহার করে কিনা, ব্যবহার না করলে শুধু শুধু কিনে টাকা নষ্ট করার কোনো মানেই হয় না।

সাথে রাখুন অভিজ্ঞ কাউকেঃ ককেনাকাটায় অভিজ্ঞতার গুরুত্ব অনেক। দোকানী সব সময় বিক্রিত মূল্যের চাইতে অনেক বেশি দাম চাইবে এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে আপনি সেই দামেই নিবেন তা কিন্তু নয়। তাই কেনাকাটার সময় সাথে অভিজ্ঞ কাউকে নিন এতে করে দরদাম করে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় জিনিসটা নিতে পারবেন।

দাম বুঝে কয়েক দোকান ঘুরে কিনুনঃ এক দোকান থেকেই সব কিনতে হবে এমন কোনো কথা নেই। তাই হাতে সময় নিয়ে বের হোন যেখানে যেই জিনসটা ভালো পাওয়া যায় সেখান থেকে সেই জিনসটাই কিনুন। প্রয়োজনে দুদিনে কেনাকাটা সম্পন্ন করুন এতে সময় একটু বেশি লাগলেও দিন শেষে সাশ্রয় আপনার ই হবে।

প্রয়োজনকে গুরুত্ত দিন, লোক দেখানো কেনাকাটা বন্ধ করুনঃ বিয়েতে যে জিনিসটা দেখা যায় তা হলো অমুক বান্ধবির বিয়েতে গায়ে হলুদ, বিয়ে, বৌভাত ছাড়াও ৭-৮ খানা শাড়ী দেওয়া হয়েছে; আপনি কেন দুটো পাবেন! লোকে কি বলবে? এসব চিন্তা মাথা থেকে বিদায় করে দিন। আপনার জীবন, আপনার বিয়েতে কিভাবে আপনি সাশ্রয় করবে এটা আপনাকেই ভাবতে হবে। বিয়ের কেনাকাটাতে বেশি সব অর্থ ব্যয় করে ফেললে বিয়ের পরবর্তী ধকল আপনাকেই সামলাতে হবে।

প্রয়োজনে ওয়েডিং প্ল্যানারের সাহায্য নিনঃ অনেকেই মনে করতে পারেন, ওয়েডিং-প্ল্যানারের কাছে গেলে বিয়ের খরচ বাড়বে। কিন্তু ওয়েডিং প্ল্যানাররা পেশাদারিত্বের সাথে বিয়ের আয়োজন করে থাকেন। তারা ভালোমতই জানেন বিয়ের কোথায় কি খরচ হয়, এবং কিভাবে তা কমানো যায়। তাছাড়া, ওয়েডিং প্ল্যানারদের সাথে অনেক সার্ভিস প্রোভাইডারদের যোগাযোগও থাকে। কমদামে তারা ডেকোরেটর, কেটারিং সার্ভিস ইত্যাদির ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন।

উপরের বিষয় গুলো মেনে কেনাকাটা করতে গেলে আপনিও সাশ্রয় করতে পারবেন। টাকা পয়সা যত কম খরচ করে বিয়ে করা যায় ততই মঙ্গল। কেননা পরবর্তীতে অর্থের টানাটানির চাইতে কম খরচে বিয়ে সেরে নেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

সর্বশেষে বলা যায় একটু গুছিয়ে প্ল্যান করে সব কিছু সাজিয়ে বিয়ে খুব সুন্দর করে সম্পন্ন করা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু কিছু বিষয় মাথায় রেখে বাজেট বুঝে পদক্ষেপ গ্রহণ করা। নিজের দায়িত্ব নিজে বুঝে এগিয়ে গেলে কাজ হয়ে যায় সহজ ও সুন্দর। এক্ষেত্রে বর-কনের ভূমিকাই মুখ্য।

Comments
No comment yet