আপনার সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেন আপনার হাশিখুশি থাকা প্রয়োজন

আপনার সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেন আপনার হাশিখুশি থাকা প্রয়োজন

হাসিখুশি মুখ দেখলেই মনটা ভালো হয়ে যায়। গম্ভীর ঘরোয়া আড্ডার পরিবেশ বদলে দিতে একজনের উচ্ছ্বসিত হাসিই যথেষ্ট। হাসি দিয়ে শত্রুকেও আপন করা যায়। কিন্তু আপনি চাইলে কি সব সময় হাসিখুশি থাকতে পারবেন? কীভাবে হাসিখুশি থেকে পরিবেশকে আনন্দময় করে তুলবেন, তা-ই তুলে ধরা হলো এখানে।

আপনার আশেপাশের মানুষ দেখতে পাবে যে আপনি কষ্টে আছেন, আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন এবং এর মাধ্যমে নিজের কাছের মানুষদের সাথে আপানর সম্পর্ক আরো ভালো হয়। আরেকটি কারণ হলো, কিছুটা বিষণ্ণতা আসলে মানুষকে পরিষ্কারভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করে। এতে অনেক সময় ঐ সম্পর্কের ভুলগুলো বোঝা যায় এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়া যায়। গবেষণায় দেখা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ের শোক এবং দুঃখ পার হবার পর সঙ্গীর ব্যাপারে মাঝে মাঝে চিন্তা করাটা আসলে ভালো। প্রথম প্রথম এতে কষ্ট হলেও সময়ের সাথে সাথে সব কষ্টই ভোঁতা হয়ে যাবে। নিজেকে সময় দেওয়াটা এক্ষেত্রে খুব জরুরী। দ্রুতই অন্য কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়াটা হতে পারে বড় ভুল, কারণ সেক্ষেত্রে আপনার অতীত সম্পর্কের শোক বর্তমান সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর চাইতে পরিবার ও কাছের বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোটা উপকারি। আপনার হৃদয় ভেঙ্গে গেলেও, ভাঙ্গা টুকরোগুলো জোড়া দেবার মাধ্যমেই ভবিষ্যতে আপনি পেতে পারেন সাফল্য।

দুটো ভাবে ভাবা যায়:

১. যদি আপনি Emotional হন -

সাধারণত অল্পবয়সের সম্পর্ক ভেঙে যায়, কারণ সম্পর্ক টেনে নিয়ে যেতে হলে একে অন্যের সাথে যে adjustment করতে হয় তার বোধ থাকে না। প্রেমের আবেগ কমে এলেই মনে হয় -"ও আমার জন্য কি করছে বা আমি ওর জন্য কেন চেঞ্জ হবো?". তখন মনে হয় সম্পর্ক শেষ হলেই ভালো। হয়তো ও আমার জন্য ছিল না। কিছুদিন একা থাকার পরে নিজের ভুল যদি বুঝতে পারা যায় তাহলে তার ভালো প্রভাব পরের সম্পর্কে পড়ে এবং সেটা দীর্ঘস্থায়ী করে। অনেকেরই দেখবেন প্রথম বিয়েটা ভেঙে যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়েটা টিকে যায়, কারণ তখন সে Post-Marriage অ্যাডজাস্টমেন্ট-র জন্য তৈরি। আর একে অন্যের প্রিয় শখ, খাবার ,পছন্দ, বিশেষ দিনগুলো তো জানেনই , তাই নতুন করে মনে রাখার দরকার পড়বে না।

২. যদি আপনি Rational হন -

একটা খাতা-পেন্সিল দরকার হবে। এক এক করে মন দিয়ে ভেবে point-wise লিখে ফেলুন পুরোনো সম্পর্কটা ঠিক কি কারণে ভেঙে ছিল। আর সেগুলো মেরামত হওয়ার সম্ভাবনা কতটা।দরকার হলে কয়েকটা Unofficial friendly মিটিং করুন কোনো কফিশপে। ভালো করে দেখে নিন সব কটা পয়েন্ট কেটে গেছে কিনা। যেগুলো কাটেনি সেগুলোর প্রভাব কতটা পড়বে ভবিষ্যৎ জীবনে তা বুঝে নিন। যদি মনে হয় ভবিষ্যৎ জীবন চাপের তাহলে চুপচাপ ব্লক করে দিন।

নিজের এবং ভালবাসার মানুষেরর পছন্দকে গুরুত্ব দিন

আপনি যেভাবে বাঁচতে চান, তার ওপর জোর দিন। অন্যের কথায় নিজের পছন্দকে অবহেলা করবেন না। সব সময় অন্যকে খুশি করে চলতে গেলে আপনি নিজে খুশি থাকতে পারবেন না। তবে সে ও আপনার জন্য অনেক ত্যাগ করেছেন বা করছেন, তাই আপনার ও নিজের পাশাপাশি তার ইচ্ছা কেও বুঝতে হবে আর সম্মান দিয়ে চলতে হবে। তাই নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দিন। দেখবেন অনেক বেশি হাসিখুশি থাকতে পারবেন।

নিজের মধ্যে সুখ খুঁজুন

আপনার কোন কাজটি করতে ভালো লাগে। কোন কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন বা আপনি কোন কাজগুলো করে আনন্দ পান—এমন কাজগুলোই বেশি করুন এবং নিজের মধ্যে সুখ খুঁজে বের করুন। সব সময় অফিস বা অন্যের সুখের জন্য কাজ না করে, নিজের পছন্দের কাজটিও মাঝেমধ্যে করার চেষ্টা করুন। দেখবেন হাসিখুশি থাকতে পারছেন।

নেতিবাচক চিন্তা দূর করুন

নেতিবাচক চিন্তা করলে আপনি ধ্বংস হতে বাধ্য। এ একটি জিনিসই আপনাকে শেষ করে দেবে। নেতিবাচক চিন্তা করে কখনো হাসিখুশি থাকা যায় না। তাই হাসিখুশি থাকতে হলে নেতিবাচক চিন্তা বাদ দিন। অন্যের ভালো করার চেষ্টা করুন। দেখবেন এমনিতেই হাসিখুশি থাকতে পারছেন।

নিজেকে সবসময় ঠিক ভাববেন না

সে যাই হোক না কেন, এক্ষেত্রে দেখতে হবে আপনার প্রেমিক এর যে দোষ ত্রুটি গুলোর জন্য তাকে আপনি একসময়ে বাতিল করেছিলেন, সেই দোষ ত্রুটি গুলো সংশোধন হয়েছে কি না? যদি তার মধ্যে অনুশোচনা এসে থাকে তাহলে অবশ্যই আবার মেনে নেওয়া যায়। তবে এটাও দেখতে হবে তার মধ্যে নতুন কোন অভিসন্ধি রয়েছে কি না?

ঠিক উল্টো করে দেখুন এবার, আপনি নিজের ভুলে যদি কারো কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে থাকেন বা আপনার প্রেমিক আপনাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল, বর্তমানে আপনি আপনার ভুল বুঝতে পেরে অনুশোচনায় ভুগছেন এবং আপনার প্রেমিক এখনো আপনার আশায় পথ চেয়ে বসে আছেন, সেক্ষেত্রে আপনি আপনার ভুল অকপটে স্বীকার করে আবার ফিরে যেতে পারেন।

ক্ষমা করার মনোভাব জীবনকে অনেক সুন্দর করে তোলে!

মনে রাখবেন, ভুল মানুষ মাত্রই করে থাকে আর ক্ষমা করা মানুষের শ্রেষ্ঠ ধর্ম। সব জায়গায় সব কিছুর প্রয়োগ করা লাগে না, কিছু জায়গায় বন্ধুত্ব দিয়েই সব ম্যানেজ করা যায়, সেখানে আমরা প্রেমিক/প্রেমিকার অধিকার না খাটানোই ভালো।

সম্পর্ক ভাঙ্গে যখন জোড়া দেওয়ার শেষ উপায় টুকুও শেষ হয়ে যায়। একজনের বা দুইজনেরই সর্বোচ্চ চেষ্টার পর সম্পর্কটা ভাঙ্গে। এরপর আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

***মনে রাখবেন, প্রতিটি সম্পর্কই অনেক বেশি সুন্দর তবে একে আপনার গাছের মত পরিচর্যা করে বড় করে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।***
Comments
No comment yet